1. admim@mystiqueapi.com : admim :
  2. protidinerkantho@gmail.com : দৈনিক গ্রামের কণ্ঠ : দৈনিক গ্রামের কণ্ঠ
  3. : wp_update-1716554041 :
  4. wpsupp-user@word.com : wp-needuser : wp-needuser
বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪, ০৯:২৮ পূর্বাহ্ন

অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গে  জ্বালানি ব্যবস্থাপনার অগ্রগতি

কণ্ঠ ডেস্ক
  • আপডেটের সময় বুধবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২৩

দেশের অর্থনীতির দ্রুত উন্নয়নে শিল্পায়নের বিকল্প নেই।২০০৯ সালে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই উপলব্ধি থেকেইসরকার বলেছেতারাদেশজুড়ে শিল্পবান্ধব  পরিবেশসৃষ্টিকরতেআগ্রহী।তাড়াচায়কোন বাধা ছাড়াই শিল্পের বিস্তার ঘটুক। শুধু তাই নয় কলকারখানায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগআকৃষ্ট করতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১00 টি অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পথেওঅনেকটাই এগিয়েছে সরকার।কিন্তু শিল্প ও কল কারখানার মূল চালিকাশক্তি জ্বালানিরব্যয়শাস্রয়ী ও নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহের নিশ্চয়তা সরকার এখনো দিতেপারেনি।এর জন্য দায়ী ভ্রান্ত জ্বালানিব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনা। বর্তমানে জ্বালানির ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে সরকার ক্রমে আমদানির দিকে ঝুকে পড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশে এখন ব্যয়বহুল তরলপ্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি (এলপিজি) করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আনা হয়েছে ব্যয়বহুল জ্বালানিতেল।সরকারের যে পরিকল্পনা তাতে ভবিষ্যতে এলএনজি এর আমদানি আরো বেড়ে যাবে। শুধু গ্যাসই  নয়, তেল ও কয়লাসহ অন্যান্য জ্বালানিতেও আমদানি নির্ভরতা বাড়ছে। অথচ দেশের মূল ভূখণ্ডে গ্যাস ও কয়লার খনি থাকার সম্ভাবনা সত্ত্বেও এসবের অনুসন্ধানে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। সব মিলিয়ে সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনারসঙ্গে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা সংগতিপূর্ণ নয়।

স্বল্পমূল্যে প্রাকৃতিক গ্যাসের উপর নির্ভর করেবাংলাদেশ দীর্ঘসময় অর্থনৈতিকচাকা চালু রেখেছে।২০১০ সালে এসে গ্যাস সংকটজ্বালানি খাতে ব্যাপক নীতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ সময় আমদানি করা জ্বালানি তেলের উপরনির্ভরশীলতা বেড়ে যায়।২০১৫ সালে জ্বালানি তেলের সরবরাহের ভবিষ্যৎ রূপরেখা প্রণয়নকালে নির্ধারিত হয় যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে অন্যতম প্রধান ভূমিকা রাখবেকয়ল,যার পুরোটাই আমদানি করা হবে। এটা উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম বাড়ার একটি ধাপ বলে বিবেচিত হচ্ছে এখন। সর্বশেষে ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতোএলএনজি আমদানির মাধ্যমে গ্যাস সংকট অনেকটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে । কিন্তু এল এন জি ব্যয়বহুল, এর উপর ব্যাপক নির্ভরশীলতা অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এরই মধ্যে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে এলএনজি সরবরাহ করতে গিয়ে এলএনজি সরবরাহ করতে গিয়ে সরকারকে ব্যাপক ভর্তুকিও দিতে হচ্ছে।জ্বালানি পরিকল্পনা ও সংশোধন করা হয়েছে।কিন্তু এতে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় কোন উন্নতি লক্ষ্য করা যায়নি কারণ স্থানীয় পর্যায়ে গ্যাস কয়লার অনুসন্ধানে গভীর দৃষ্টি দেওয়া হচ্ছে না। ফলে বাংলাদেশ ক্রমে ব্যয়বহুল আমদানি নির্ভর জ্বালানি খাতেরদিকে ঝুকে পড়ছে। দেশ গ্যাস অ।নুসন্ধানে এখনো পরিপক্ক হয়নি বরং প্রাথমিক পর্যায়ে আছেসুতরাং দেশের সব গাছ ফুরিয়ে যাচ্ছে এ ধারণা থেকে জ্বালানি আমদানির উপর শরবতভাবে ঝুকে পরা যৌক্তিক নয়। বৈশ্বিক তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা আগে যাচ্ছে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া সহ বিভিন্নদেশের শিল্পায়নে  উন্নয়নশীল দেশ দেশীয় উৎস থেকে জ্বালানি যোগানোতেই বেশি দৃষ্টি দিয়েছে। ভিয়েতনাম বর্তমানে নিজস্ব প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লা ব্যবহারের মাধ্যমে মোট বিদ্যুতের যথাক্রমে ৩১ও ২৬ শতাংশ উৎপাদন করেছে।এখন দেশটির নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন ও ব্যবহারে আরো বেশি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।এভাবে কম্বোডিয়াও গতানুগতিক অনবহনযোগ্য জ্বালানির পাশাপাশি সৌর বিদ্যুৎ বায়ু বিদ্যুৎ ও জলবিদ্যুৎতেরমতনবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে শিল্প খাতে জ্বালানি চাহিদা মিটাচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ায় ও সমরূপ অবস্থা।এসব দেশের অভিজ্ঞতা অনুসরণ করে আমাদেরও দেশিওজ্বালানিতে মনোযোগ দিতে হবে। সরকার বলেছে দেশীয় উৎস কমে আসায় গ্যাস ভিত্তিক শিল্পায়নের চাকা সচল রাখতে ব্যয় বহুল এলএনজি তেল ও জ্বালানি আমদানির বিকল্প কোন রাস্তা খোলা নেই। দেশের শিল্পায়নে চাহিদা পূরণ করতে গেছে সরবরাহ করার দরকার। এখন যেহেতু আমাদের নিঅধিকাংশ জ্বালানি যেমন কয়লা জস্ব গ্যাসের উৎস সীমিত ফলে বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করে শিল্প কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করা হবে।প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা যে গতিতে বাড়ছে উৎপাদন সেই গতিতে বাড়ছে না। ফলে আমদানি করা ছাড়া বিকল্প কোন উপায় নেই। শুধু গ্যাস নয় চাহিদা দেশেরসব প্রাথমিক জ্বালানিইআমদানি নির্ভর হয়ে পড়েছে। যার ভেতর রয়েছে কয়লা, জ্বালানি তেল, এলএনজি এমনকি পারমানবিক ফুয়েল ও।আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সবসময় দোদুল্যমান। নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান ও আহরণে বিশেষ অগ্রাধিকার দিতে হবে। বাংলাদেশের জল ও স্থলভাগে আরও বেশি গ্যাস সম্ভাবনা রয়েছে। জ্বালানি খাতে স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে হলে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের কাজ বেগবানবাংলাদেশ যদি এলএনসির উপর  করতে হবে।

আমদানিকৃত এলএনজির কারণে তেলের দাম দফায় দফায় বাড়ছে। এছাড়া দেশের অধিকাংশ জ্বালানি যেমন কয়লা, জ্বালানি তেল সহ সবকিছু আমদানি নির্ভর হয়ে পড়ায় দেশের সবকিছু আমদানি নির্ভর হয়ে পড়ায় জ্বালানি খাতা আর ব্যয় ভুল হয়ে পড়বে। এরই মধ্যে এলএনজির দাম পরিশোধ করানিয়েসরকার  হিমশিম খাচ্ছে সরকারি গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো। এজন্য সঞ্চিত কোষাগারে হাত দিতে হচ্ছে তিতাস কে এল এন সির মূল্য পরিশোধে।বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ক্ষেত্রে একই কথা প্রযোজ্য। প্রতিষ্ঠানকে রক্ষার্থে সরকারকে অর্থের যোগান দিতে হচ্ছে। বাংলাদেশ যদি এলএনজির উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হতে হয়, নির্মিতব্য বৃহৎকয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোযদি শুধু আমদানি করা কয়লার উপর নির্ভরশীল হয়, যদি আমদানি করে তেলের উপর বাড়তি নির্ভরশীলতা কমানো না যায় এবং যদি নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন ও ব্যবহার উল্লেখযোগ্য ভাবে না বাড়ানো যায়, তাহলে নিকট ভবিষ্যতে বাংলাদেশের৯০ শতাংশের বেশি হবেআমদানি নির্ভর । এতে জাতীয় অর্থনৈতির উপর যে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে, তা নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়।

 

এস এম সাহিদুর রহমান

শিক্ষার্থী, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগ

বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

 

 

 

 

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2024 LatestNews
Developed by: JIT SOLUTION